Golpo Community Forum - View Single Post - Amar Apon Adhar
Thread: Amar Apon Adhar
View Single Post
  #1 (permalink)  
Old 07-28-2007, 08:41 PM
Addabaj's Avatar
Addabaj Addabaj is online now
Addabaj is Confused :-s
G. Addu
Moderator
Gender: Male
My System
 
Posts: 7,795
Threads: 114
Last Online: 08-29-2008 02:59 PM
Join Date: Nov 2006
Location: Lost in a storm
Blog Entries: 6
Send a message via MSN to Addabaj Send a message via Yahoo to Addabaj Send a message via Skype™ to Addabaj
Cool Amar Apon Adhar


Please download Bangla font and paste it inside the fonts folder to view this blog.





Download Bangla.ttf - 137.05 Kb

Download Vrinda.ttf - 246.89 Kb


Download Punarbhaba.ttf - 370.70 Kb



আমাদের কন্যাবিহিন সংসার


আজ কেন যেন আমাদের কন্যাবিহিন এই সংসারটা সম্পর্কে লিখতে ইচ্ছা হলো। এই বাসাতে আমরা ৮ জন ছেলে থাকি। বাসাটা কবে কে প্রথম ভাড়া নিয়ে ছিলো কেঊ জানেনা। অবাক হচ্ছো? আসলে এটাই সত্যি। ব্যাক্ষা করি একটু। প্রথমে হয়তো কেউ বাসাটা ভাড়া নেয়, সে তার সাথে কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে এই বাসায় ওঠে। তাদের কেউ কেঊ এক সময় চলে যায়, নতুন ছেলেরা এসে ওঠে। একসময় যে প্রথম বাসাটা নিয়েছিলো, সে নিজেও চলে যায়, নতুনদের মধ্যে কেউ বাসাটা নিজের নামে ভাড়া নিয়ে নেয়। এমনি করে বাসাটা থেকে যায়। এখন এই বাসাটা আমার নামে আছে। আমি যাদের সাথে উঠেছিলাম তাদের মধ্যে মাত্র একজন এখনো আমার সাথে আছে, সে ডিসেম্বর মাসে চলে যাবে। হারাধনয়ের সাতটি ছেলের মত পুরাতনরা কেউই আর থাকবে না। বছরের পর বছর ধরে কন্যাবিহিন এই সংসারটা তার নিজ গতীতে চলে আসছে, চলতে থাকবে জানিনা কতদিন।

সংসার, সেইটা একজনের ছোট্ট সংসার হোক অথবা ১০ জন সদসসের অনেক বড় সংসার, তার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস থাকেই। আমাদের সংসারেও হয়তো সবকিছুই আছে, কিন্তু কন্যাবিহিন হবার কারনে আমরা নিজেরাও জানিনা যে আমাদের কি আছে, কি নেই। যেমন কেউ রান্না করবে, সব কিছু রেডি, চুলায় পাতিল বসিয়ে দিয়ে দেখলো যে ঘরে একটাও পেঁয়াজ নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় তেল আর চাল নিয়ে। মশলা প্রায়ই থাকেনা সবগুলো, যা থাকে তা দিয়েই রান্না হয়। সব গুড়া মসলা আর আদা, রসুন এর পেস্ট ব্যাবহার করি আমরা। কাজেই মসলা বাঁটার কনো ঝামেলাই নেই। পেয়াজ আর মরিচটা কেটে নিতে হয় শুধু। ফ্রিজে মাছ মাংস সব সময়েই থাকে, যার যেদিন রান্না থেকে, সে একটা কিছু বের করে নেয়। প্রায় সময়েই একটা তরকারি আর ডাল রান্না করা হয়। মাঝে মাঝে তরকারির সাথে শাকসবজি থাকে। দুপুরের রান্না প্রায় দিনই বিকেল ৫টার পর শেষ হয়, মাঝে মাঝে ৬টা ৭টাও বেজে যায়। ২৪ ঘন্টা ছেলেরা কিছু না কিছু খায়। কেউ দিনে কাজ করে, সন্ধায় ফিরে এসে খায়, কেউ সারারাত কাজ করে ভোরবেলায় ফিরে আসে। যাদের সকালে ক্লাস বা কাজ নেই, তারা দুপুরের খাবার খায় বিকেল ৬ টার দিকে, রাতেরটা খায় রাত ৩ টায়। গত ২ বছরে ব্রেকফার্স্ট জিনিসটা সকালে খুব কম দিনই খেয়েছি, আমার নরমাল ব্রেকফার্স্ট টাইম দুপুর ২ টার পর। সিডনীতে অনেক বাসাতেই একবেলা বাসায় বসে খাবার নিয়ম। রান্নার ঝামেলার জন্য এমনটা হয়। সব বাসাতেই মাঝে মাঝে কনো খাবার থাকেনা। হয়তো কেঊ রান্না করতে ভুলে গেছে অথবা কাজে চলে গেছে, সেদিন আর সহজে বাসায় কিছু খেতে পাওয়া যাবেনা। সিডনীর কন্যাবিহিন প্রতিটা সংসারেই এইটা একটা কমন সমস্যা।

আমাদের বাসায় আমি সবার বড়। বাসায় আমি অসম্ভব কম কথা বলি, যতক্ষন জেগে থাকি, কম্পিউটারের সামনেই বসে থাকি। টিভি দেখা আমার প্রায় হয়ই না। মাঝে মাঝে বাংলা নাটকের ডিভিডি দেখি তাও কম্পিউটারে বসে। কিন্তু আমাদের বাসায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৮ ঘন্টা টিভি চলে। অনেক সময় কেউ না থাকলেও টিভি চলতেই থাকে। সমস্ত ঘরে ডিভিডি ছড়ানো ছিটানো থাকে। বসার ঘরে ২টা কম্পিউটার টেবিলে রাজ্যের কাগজপত্র, আগের দিনে খাওয়া পানিয়ের বোতল (হার্ড এবং সফট), কাপড় চোপড়, এমনকি কাঁথা বালিশ পর্যন্ত স্তুপ করা থাকে। প্রায় দিনেই রিমোট খুজে পাওয়া যায় না। সেইটা খুজতে গিয়ে এলোমেলো জিনিসগুলো আবারো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।

আমাদের বাসার দেয়ালে কনো পেইন্টিং বা ক্যালেন্ডার নেই। আমার ঘরে একটা দেয়াল ঘড়ি আছে শুধু। ঘর পরিস্কারের ব্যাপারে সবারই চরম অনীহা। শুধুমাত্র বাসায় গুরুত্তপুর্ন কনো গেস্ট আসার কথা থাকলে অথবা বাসা ইন্সপেকশন থাকলে আমরা সবাই মিলে ঘর পরিস্কার করতে লেগে পরি। প্রতিটা ঘরের মেঝেতে আর বিছানার উপর কাপড় চোপড় এর স্তুপ পাওয়া যাবেই। আর একটা জিনিস বলতে ভুলে গেছি, আমাদের বাসায় মোট ৪৭ জোড়া জুতো আছে ! ৮টা মানুষের কি করে ৪৭ জোড়া জুতো থাকতে পারে সেইটা আমরা কেউ জানিনা। বাসায় ঢুকতে গেলে হঠাৎ করে কেউ ভাবতে পারে যে এখানে বড় কনো পার্টি চলছে !

এখন আমার ফ্যামেলী মেম্বারদের কথা বলি।






ফয়সালঃ চট্টগ্রামের ছেলে, কম কথা বলে, মজা করতে পছন্দ করে, দেশে গেলে সহজে আসতে চায় না (শেষবার দেশে গিয়ে ৭ মাস ছিল), ড্রিঙ্ক করেনা।






মেহদীঃ ঢাকার ছেলে, একটা বড় সাইজের ছোট্ট বাবু, ভীষন অগোছালো, জীবনে চুল আচড়ায়না, যে কনো সময় ঘুমিয়ে পরতে পারে (ওর মত এতো বেশী সময় ঘুমাতে আমি কাউকেই দেখিনি), মাঝে মাঝে ড্রিঙ্ক করে।






মঞ্জুঃ ঢাকার ছেলে, বেশী কথা বলে, মজা করতে ভালবাসে, সবচেয়ে বেশী ড্রিঙ্ক করে, খুব ভাল রান্না করে, অনেক রান্না জানে সে, কথা বলে একদম অস্ট্রেলীয়ান একসেন্টে।






টমাসঃ ঢাকার ছেলে, মাথায় বড় ধরনের সমস্যা আছে, সারাক্ষন হাস্যকর কাজকর্ম করে, একবার ঘুমিয়ে পরলে কেউ জাগাতে পারেনা তাকে, সন্ধ্যা ৭ টায় কাজ থাকলে রাত ১ টার দিকে যায়, ড্রিঙ্ক করেনা।





নাজমুলঃ চট্টগ্রামের ছেলে, স্পাইনাল কর্ডের স্প্রিং ঢিলা আছে, নড়াচড়া না করে ১ সেকেন্ড থাকতে পারেনা, ভাল গান করে, ওকে কনো প্রশ্ন করলে হাস্যকর একটা উত্তর পাওয়া যাবেই, প্রচুর ড্রিঙ্ক করে, গ্যাম্বলিং করে অনেক টাকা নস্ট করে।





জেবেদঃ কুমিল্লার ছেলে, কম কথা বলে, সেও মজা করতে পছন্দ করে, ভাল রান্না জানে।






আরমানঃ চট্টগ্রামের ছেলে, দুবাইতে ছিল অনেকদিন, ভাল বাংলা জানেনা, সবজান্তা টাইপের কথা বলে, যতক্ষন জেগে থেকে ফোনে কথা বলে, পৃথিবীটা যে তার বাবার না, সেই কথাটা সে এখনও বুঝে উঠতে পারেনি, ১০০% হালাল জিনিশ ছাড়া খায় না।





সুমনঃ ঢাকার ছেলে, খুবই কম কথা বলে, কম্পিউটারের পোকা, নিজের মতো থাকে, মজা করতে পছন্দ করে কিন্তু সবসময় না, ভাল রান্না করতে পারে কিন্তু সেই রান্না কেউ খেতে পারেনা, সারারাত জেগে থেকে আর দিনে ঘুমায়, সহজে সেইভ করেনা, টিভি দেখেনা, চরম অগোছালো, নিজের চারপাশে একটা রহস্যময় পরিবেশ তৈরী করে রাখে সারাক্ষন।





এইতো আমাদের কন্যাবিহিন সংসার। এদের নিয়েই বেঁচে আছি, ভাল আছি।
Reply With Quote