আমার জন্মদিন আজ ছিলো আমার জন্য খুব কষ্টের একটা দিন। না বললে কেউ বুঝবেনা, জানবেওনা কোন দিন, কেন এই দিনটা তে আমি সব চাইতে বেশি কষ্ট পেয়েছি। অথচ আমার জন্য একটা আনন্দের দিন হবার কথা ছিলো আজকের দিনটা। বুড়ো বয়সে জন্মদিন খুব বেশি আনন্দের ব্যাপার না। কিন্তু আমি আমার বয়স নিয়ে চিন্তা করিনা। সময় তো তার নিজ গতীতে বয়ে চলে, থামানো যায়না, ছোঁয়া যায়না। আজকের সকালটা শুরু হয়েছে ভালো ভাবেই, সকালে নামাজ পড়েছি, মোবাইলে দেখি পাঁচটা মেসেজ এসে বসে আছে। বড় ভাই, ভাবী, মৌরী, তৃষ্ণা, তিথীর মেসেজ। কাল রাতেই সীমার ব্লগ দেখেছি। আমার বোনটা আমার মোন খারাপ করে দিয়েছে তখনই। সবাই এতো ভালোবাসে কেন আমাকে? মনির দাদু কালকেই ব্লাষ্টে দিয়েছে আমার জন্মদিনের কথা। আর রিপন লিখেছে "অষ্ট্রেলীয়ান বান্দর জয়", ব্লাষ্টে আর ইয়াহু মেনেঞ্জার স্ট্যাটাসে। ফারিয়া বুড়ী, আমিত, লাবনি খালামনি, বাবলী, নাজিব তাদের ব্লাষ্টে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তাসমিয়া ব্লগ লিখেছে "হ্যাপী বার্থডে টু মাই শশুর" ! আমার পেইজে আর ব্লগে এখন পর্যন্ত সুন্দর সব কমেন্ট করেছে তাসমিয়া, মনির, আলো (যদিও শুধু একটা স্মাইল, তার পরেও আমি বুঝতে পেরেছি যে সেইটাই তার করা বার্থডে উইশ), আরাফাত, সীমা, ফারিয়া, ইভা, বিলু, মিয়াউ, লাবনি খালামনি, ফাতেমা, কান্তা দাদি, মিতু, অরন্য, নিপু, রাজন, ফাহাদ, অদিতি, পল্লব, ইমন, নাজিব আর আমাকে অবাক করে দিয়ে এই প্রথমবার আমার পেইজে পারু আপু। ইয়াহু মেনেঞ্জারে উইশ করেছে দিনার আর পান্না। উইন্ডোজ মেসেঞ্জারে তানহা, এমি, চকলেট (পাগলীটার নামটাও জানিনা আমি)। গল্প ফোরামেও নতুন থ্রেড খুলে উইশ করেছে ফ্রেন্ড, হাবিজাবি, কামরুল, চকলেট, অমিত, অরোরা, জেমিনি, ডেড আইজ, কিন্নরী, মারিয়া, এঞ্জেল মর্ন, নীল, অর্ণব, এলানা আর ডিপ্রেশন উইদিন। অনেকের কমেণ্ট মিস করছি আমি। অনেকেই এখন আমাকে আর পছন্দ করেনা জানি। কিন্তু তবুও ......... । অনেকেই ব্যাস্থতা বা অন্য কারনে নেটে আসতে পারেনা। তাদের মদ্ধে আছে (ইয়াহু ৩৬০) মিসমা, নাহিন, জেরিন, সাতিল, ইরতেজা, রিফাত, বর্ণা, বৃষ্টি, তাসমিয়া (ইটুনি), ইপসা, নিতু, মাসা, মিতু আপু, নিরু, নওরী, তারেক এমনি আরও অনেকে। আর গল্পতে শুভ, তানহা, হেলজ পরি, ডার্ক সেইন্ট, রিয়া, সিভিরাস, সেমিগেল, মেঘ বালিকা, আনডিস্পিউটেড, মুহাই, লামিয়া ...... ............ সকালে নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। ১০টার দিকে উঠে রান্না করলাম, চিকেন আর ডাল, খুব সাধারন খাবার। আমার এর চাইতে বেশি কিছু রান্না করতে ইচ্ছে করেনি। কি হবে? তারপর তানহার সাথে কথা বলেছি কিছুক্ষন, এমি আর চকলেটের সাথে কথা বলেছি উইন্ডোজ মেসেঞ্জারে। বিকেলে নিতু, অমিত, মিয়াউ, নিপু (খুব ব্যাস্থতার মদ্ধেও সে শুধু আমাকে উইশ করতে নেটে এসেছিলো), ইপসার সাথে কথা বলেছি। আজকে আব্বু, আম্মু, আমার মেজো মামা, মামি, সীমা সবাই গিয়েছিলো আমার ছোট খালার বাসায়। ওয়েব ক্যাম দিয়ে আজকে প্রায় দুই বছর পর আব্বু আম্মুকে দেখলাম। আমাকেও দেখেছে সবাই। তাসমিয়ার সাথে কথা বলছি অনেক্ষন, বিকেলে। সন্ধার পর তিথী আর আদিত্যর সাথে কথা বলেছি ফোনে। আমার দুই রুমমেট নাজমুল আর টমাস আমাক উইশ করে হাফ কেজি চকলেট গিফট করেছে। বাকিরা কেউ বাসায় নেই। ঢাকা থেকে গেষ্ট আসায় তাদের নিয়ে ঘুরতে গেছে আমার আর তিন রুমমেট। এখন অনেক রাত এখানে। সাড়ে বারটা বাজে। জন্মদিনটা এসব করেই কাটিয়ে দিলাম। গত বছর এমন সময়েই কাজের মদ্ধে খুব অসুস্থ হয়ে গেছিলাম। তার পর থেকে অনেক টেষ্ট করে করে এক সময় ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছিলেন আমার নিয়তি। এদেশের ডাক্তাররা রোগীকেই সব কথা বলে দেন, আমাকেও জানিয়ে দিয়েছেন সব কথা। বলে দিয়েছেন আর খুব বেশি হলে সাত বছর সময় আছে আমার হাতে। তার থেকে আরও একটা বছর চলে গেলো। কত কিছু করার বাকি এখনও। কিছুই করা হবে না হয়তো। চলে যাব মায়ার এই বাঁধন ছিড়ে, এমন এক যায়গায়, যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফিরে আসেনা। |