sedin sararat jege jhor dekechi, tarpore ai rochona

.
অন্ধকার ঘর
খোলা জানালার পাশে নিশ্চল বসে আমি এক নিশাচর
বৃষ্টির কনা ছুরিসম হয়ে বিধছে আমার চোখে মুখে
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছি আমি এই রুদ্র প্রকৃতিকে
ধ্বংসের ঘূর্ণনগ্রাসে লন্ডভন্ড এ পৃথিবী
কালিগোলা আকাশে আর বোধহয় উঠবে না কোন রবি
তবু কি নিশঠুর সৌন্দর্য় ,কি তাহার লহর
বিধাতার ক্রোধে ক্রোধান্বিত এ ঝড়
প্রকৃতির বিদ্রোহী সত্তা জেগে উঠেছে আজ
চূর্ণবিচূর্ণ করবে আজ সে মানুষের সব কারুকাজ
উল্লাসিত আজ ধরিত্রী দেবী
প্রতিনিয়ত ধর্ষনের বদলার আগুনে চোখ তার রক্তকরবী
ইন্দ্রের বজ্র আজ ঝড়বে অবিরাম
শো শো শব্দে বয়ে যাবে পবনদেব আজ নিরবিশ্রাম
একদা শান্ত সমূদ্র আজ রাবণ আক্রোশসম প্রলয়ংকরী
প্রবল বেগে আকাশে ঝড়ছে আজ গঙ্গাদেবী
ভেসে যাক আজ সমস্ত লোভ হিংসা বিদ্বেষ বিভেদ
ধনী নির্ধণে না করুক সে কোনো ভেদাভেদ
অসুররুপী মানুষ হোক আজ নির্মুল
সকল কলুষতার উৎপাটন হোক সমূল
হায়, তবু আজ বিপন্ন নিষ্পাপ মনূষ্যত্ব
প্রমান করতেই হবে আজ আমাদের ভ্রার্ত্বত্ব
সৃষ্টিসেরার সামনে আজ অগ্নিপরিক্ষা
মহিয়ান উদ্বার কর আজ না করে প্রতিক্ষা
ভোর হল
আবছা আলোয় দৃশ্যায়মান পৃথিবী এলোমেলো
মেঘের আড়ালে সুর্জ আজ মুখ লুকোল
এতদসত্বেও একটি চারা বৃক্ষ আজ দন্ডায়মান
নুয়ে পড়েছে তবু সে সইবে না ভেঙ্গে পড়ার অপমান
ঐ দূরে কে যেন আসে, দৃপ্ত পদক্ষেপে এ কার আগমন
এলো এক বালক দিল সে বৃক্ষকে অবলম্বন
মেঘ চেরা সূর্জের আলোয় বালকের অবয়ব হলো শানিত
মহাপ্রলয়ের মহাপ্রয়ানে নতুনের আগমন এভাবেই হোক প্রতিধ্বনিত